শীতের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে কলকাতার আবহাওয়া এখন এক অদ্ভুত মিশ্র অনুভূতি তৈরি করছে। ভোরের দিকে হালকা শীতল বাতাস শরীর ও মন দুটোই সতেজ করে তোলে, আবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উজ্জ্বল রোদ শহরের ব্যস্ত জীবনে গতি এনে দেয়। এই আবহাওয়া একদিকে যেমন স্বস্তির, তেমনই বদলের ইঙ্গিতও দিচ্ছে। চলুন দেখে নেওয়া যাক আগামী তিন দিনে কলকাতা ও তার সংলগ্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার বিস্তারিত চিত্র।
প্রথম দিনে, সকালের দিকে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকবে। ভোর ও সকালবেলায় হালকা কুয়াশা বা শিশিরের প্রভাব লক্ষ্য করা যেতে পারে, বিশেষ করে শহরের প্রান্তবর্তী ও খোলা এলাকায়। বাতাস থাকবে শুষ্ক ও শীতল, যা হাঁটা বা সকালের কাজের জন্য বেশ উপযোগী। দিনের বেলায় আকাশ থাকবে মূলত পরিষ্কার, রোদের তেজ মাঝারি হলেও আরামদায়ক অনুভূতি দেবে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়বে, তবে অস্বস্তিকর গরমের সম্ভাবনা নেই।
দ্বিতীয় দিনে, কলকাতার আবহাওয়ায় সামান্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে। সকালে শীতলতা কিছুটা কমলেও বাতাসে থাকবে হালকা শুষ্ক ভাব। আকাশে অল্প কিছু পাতলা মেঘের আনাগোনা হতে পারে, তবে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। দুপুরের পর রোদের তীব্রতা কিছুটা বাড়তে পারে, ফলে দিনের বেলায় গরমের অনুভূতি বাড়বে। তবুও সন্ধ্যার দিকে আবার আবহাওয়া হয়ে উঠবে মনোরম ও স্বস্তিদায়ক।
তৃতীয় দিনে, শীতের প্রভাব আরও খানিকটা কমে আসবে। সকালের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় সামান্য বেশি থাকতে পারে, ফলে ভোরের শীতলতা আগের দিনের মতো তীব্র নাও হতে পারে। আকাশ পরিষ্কার থেকে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। দিনের বেলায় রোদ থাকবে উজ্জ্বল, যা শহরের কর্মব্যস্ত মানুষজনের জন্য একটু গরমের অনুভূতি তৈরি করতে পারে। তবে সন্ধ্যা ও রাতের দিকে হালকা বাতাস আবার কিছুটা আরাম এনে দেবে।
সব মিলিয়ে, আগামী তিন দিনে কলকাতা ও তার আশপাশের অঞ্চলে আবহাওয়া থাকবে মূলত শুষ্ক, পরিষ্কার ও মনোরম। শীত ধীরে ধীরে বিদায় নিচ্ছে, আর বসন্তের আগমনী বার্তা দিচ্ছে এই রোদ-হাওয়ার মেলবন্ধন। যারা সকালে হাঁটা, ভ্রমণ বা দৈনন্দিন কাজে বের হন, তাঁদের জন্য এই সময়টা বেশ উপভোগ্য হতে চলেছে। শহরের আকাশ, রোদ আর শীতল বাতাস মিলিয়ে কলকাতা এখন যেন নিজের গল্প নিজেই বলছে—শীতের শেষ অধ্যায় আর নতুন ঋতুর সূচনা।

No comments:
Post a Comment