❄️ কুয়াশার চাদরে মোড়া শীতের কলকাতা: আগামী তিন দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস ❄️
শীতের ছোঁয়া ও কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরবেলা—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে কলকাতা ও তার তৎসংলগ্ন অঞ্চল এখন এক অন্যরকম আবহাওয়ার সাক্ষী। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে শহরের আকাশে সূর্যের দেখা মিললেও সকালের দিকে ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাস শীতের আমেজ আরও বাড়িয়ে তুলছে। আগামী তিন দিনেও এই আবহাওয়ার ধারা বজায় থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
আগামী প্রথম দিনে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভোরের দিকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা যেতে পারে। দৃশ্যমানতা কিছুটা কমে যাওয়ায় ভোরবেলা যান চলাচলে সতর্কতা প্রয়োজন। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকতে পারে ১১–১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে, যা শীতপ্রেমীদের জন্য যথেষ্ট উপভোগ্য। দিনের বেলা আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকলেও উত্তরের হালকা শীতল হাওয়া ঠান্ডার অনুভূতি বজায় রাখবে।
দ্বিতীয় দিনে শীতের দাপট আরও খানিকটা বাড়তে পারে। সকালের কুয়াশা কিছু এলাকায় ঘন আকার নিতে পারে, বিশেষ করে শহরতলি ও নদীঘেঁষা অঞ্চলে। তাপমাত্রা সামান্য কমে ১১–১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সূর্যের দেখা মিললেও দুপুর পর্যন্ত হালকা শীত অনুভূত হবে। বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা না থাকায় আবহাওয়া শুষ্কই থাকবে।
তৃতীয় দিনে কুয়াশার প্রকোপ ধীরে ধীরে কমলেও ভোরের ঠান্ডা বজায় থাকবে। সকালের দিকে হালকা কুয়াশা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার আকাশ দেখা যেতে পারে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৩–২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে, যা দিনের বেলায় স্বস্তিদায়ক আবহাওয়া তৈরি করবে। সন্ধ্যার পর আবারও ঠান্ডার অনুভূতি বাড়বে।
এই তিন দিনে শীতের আবহাওয়া কৃষক, পর্যটক ও সাধারণ মানুষের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ফেলবে। কৃষকদের জন্য শুষ্ক আবহাওয়া ফসলের পক্ষে অনুকূল হলেও ভোরের কুয়াশায় সবজি চাষে সতর্কতা প্রয়োজন। পর্যটকদের জন্য শহরের শীতল সকাল ও মনোরম দুপুর ভ্রমণের আদর্শ সময়। তবে বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের ক্ষেত্রে ঠান্ডাজনিত সমস্যা এড়াতে উষ্ণ পোশাক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর ও মৃদু শীতের ছোঁয়ায় আগামী তিন দিন কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে এক শান্ত, শীতল ও উপভোগ্য আবহাওয়া উপহার দিতে চলেছে—যা শহরের ব্যস্ত জীবনে এনে দেবে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস। 🌫️❄️

No comments:
Post a Comment