উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ—দুই ভিন্ন ভূপ্রকৃতি, দুই আলাদা আবহাওয়ার চরিত্র। আগামী তিন দিনে এই দুই অঞ্চলে আবহাওয়ার ভিন্ন ভিন্ন রূপ চোখে পড়বে, যা প্রভাব ফেলবে দৈনন্দিন জীবন, কৃষিকাজ ও পর্যটনে। কোথাও মেঘ-বৃষ্টি, কোথাও আবার শুষ্ক ও আরামদায়ক পরিবেশ—সব মিলিয়ে বাংলার আকাশে থাকছে বৈচিত্র্যের ছোঁয়া।
আগামী তিন দিনে **উত্তরবঙ্গের** আবহাওয়ায় কিছুটা অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাবে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলার পার্বত্য ও সংলগ্ন এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশের সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় সকালে ও সন্ধ্যায় কুয়াশার প্রভাব দেখা দিতে পারে, ফলে দৃশ্যমানতা কমতে পারে। তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকবে, যা শীতল আবহাওয়ার অনুভূতি দেবে। কৃষকদের জন্য এই বৃষ্টি কিছু ক্ষেত্রে উপকারী হলেও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ফসল সংরক্ষণে সতর্কতা প্রয়োজন।
অন্যদিকে **দক্ষিণবঙ্গে** আগামী তিন দিন আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল থাকবে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে আকাশ প্রধানত পরিষ্কার থেকে আংশিক মেঘলা থাকবে। দিনের বেলায় হালকা রোদের দাপট থাকলেও তাপমাত্রা খুব বেশি বাড়বে না। কোথাও কোথাও হালকা বাতাস বইতে পারে, যা আবহাওয়াকে আরামদায়ক করে তুলবে। বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম, ফলে দৈনন্দিন কাজকর্মে বড় কোনো বাধা আসবে না।
গ্রামীণ দক্ষিণবঙ্গে এই শুষ্ক আবহাওয়া কৃষিকাজের জন্য সহায়ক হতে পারে। জমি প্রস্তুত, ফসল কাটা ও পরিবহণের কাজ নির্বিঘ্নে চলবে। তবে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় জলসেচের দিকে নজর রাখা জরুরি। শহরাঞ্চলে এই আবহাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক হলেও দিনের বেলায় রোদের কারণে বাইরে বের হলে হালকা সুরক্ষা নেওয়া ভালো।
পর্যটকদের দিক থেকে বিচার করলে, উত্তরবঙ্গে পাহাড়প্রেমীদের জন্য আবহাওয়া রোমাঞ্চকর হলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা উচিত। দক্ষিণবঙ্গে সমুদ্র ও ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণের জন্য আবহাওয়া বেশ অনুকূল থাকবে। সব মিলিয়ে আগামী তিন দিনে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার এই দুই রূপ বাংলার মেজাজে এনে দেবে বৈচিত্র্য—কোথাও বৃষ্টির ছোঁয়া, কোথাও আবার শান্ত, স্থির আকাশ।

No comments:
Post a Comment