উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা গেলেও শীতের মৃদু আমেজ এখনো পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। সকালের দিকে কুয়াশা ও ঠান্ডা হাওয়ার প্রভাব বজায় থাকায় শীতের অনুভূতি অনুভূত হচ্ছে বেশ ভালোভাবেই। তবে দিনের বেলায় রোদের তেজ কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে, যার ফলে আবহাওয়ায় আরামদায়ক উষ্ণতার ছোঁয়া মিলছে।
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী ৭২ ঘণ্টায় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পার্বত্য অঞ্চল তথা দার্জিলিং কালিংপং ও তার তৎসংলগ্ন অঞ্চলে আকাশ মেঘলা থাকবে এবং হালকা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।। তবে পার্বত্য এলাকায় সকালে ঠান্ডার প্রকোপ কিছুটা বেশি থাকলেও দুপুরের দিকে আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকবে। সমতলের জেলাগুলি যেমন জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে ভোরের দিকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা যেতে পারে। রাতের তাপমাত্রা এখনো স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা শীতের আমেজ ধরে রাখবে।
অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেও তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় সকাল ও রাতের দিকে হালকা শীত অনুভূত হবে। তবে দিনের বেলায় উজ্জ্বল রোদ থাকার কারণে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক ও মনোরম থাকবে। কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা আপাতত নেই, ফলে শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
পশ্চিমাঞ্চলের জেলা যেমন বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও পশ্চিম বর্ধমান এলাকায় দিনে তাপমাত্রা কিছুটা বেশি বাড়তে পারে। এইসব এলাকায় দিনের বেলায় শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়া অনুভূত হলেও ভোর ও রাতে ঠান্ডার হালকা প্রভাব বজায় থাকবে। পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কম থাকার ফলে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে শুষ্ক থাকবে।
আগামী তিন দিনে সামগ্রিকভাবে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে আবহাওয়া স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ধীরে ধীরে শীত বিদায়ের পথে থাকলেও সকালের ঠান্ডা ও কুয়াশা এখনো বজায় থাকবে। বিশেষ করে ভোর ও রাতের সময় বয়স্ক ও শিশুদের অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া প্রয়োজন। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের মধ্যে প্রকৃতির মিশ্র রূপ উপভোগ করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকেও নজর রাখা জরুরি।

No comments:
Post a Comment