শুরু হয়েছে প্রাক মৌসুমী ঘূর্ণিঝড় ঋতু। মে মাস হলো প্রাক মৌসুমী ঘূর্ণিঝড় ঋতুর চরমতম পর্যায়। সূর্যের উত্তরায়ণের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গোপসাগর ও আরবসাগরে সমুদ্র জল তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উইণ্ড শেয়ার ও বায়ুর চাপ হ্রাস পেতে থাকে। আন্ত ক্রান্তীয় অভিসৃতি অঞ্চল উর্দ্ধমুখী হওয়ায় বাড়তে থাকে ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি। ২০২১ সালে প্রাক মৌসুমী ঘূর্ণিঝড় কোন সাগর আগে তৈরি করবে তার নিয়ে চিন্তিত ছিল সমস্ত আবহাওয়াবিদরা। তবে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জানানো হচ্ছে ২০২১ সালে আরবসাগর তৈরি করতে চলেছে প্রথম ঘূর্ণিঝড়। এবং বঙ্গোপসাগর আরবসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির দু সপ্তাহের মধ্যে তৈরি করতে পারে প্রাক মৌসুমী সিস্টেম। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় দক্ষিণ পূর্ব আরব সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় ঘনীভূত হচ্ছে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত। যা পরবর্তী ২৪ ঘন্টার মধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এবং অনুকূল পরিবেশ থাকায় ৭২ ঘন্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবার সম্ভাবনা আছে।
এখন প্রশ্ন হলো কি কি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ঘূর্ণিঝড় আসন্ন বলা যাচ্ছে ??
🔴 দক্ষিণ পূর্ব আরব সাগরে ক্রান্তীয় অস্থিরতা:
দক্ষিণ পূর্ব আরবসাগরে তৈরি হয়েছে ক্রান্তীয় ঝঞ্ঝা। যা যথেষ্ট শক্তিশালী হচ্ছে। বর্তমান প্রাথমিক পর্যায়ে (Initial stage ) যে হারে মেঘমালা সংগঠন তৈরি করছে এবং পর্যায়ক্রমে কনভেকটিভ ক্লাউড তার চারপাশে তৈরি করছে তাতে ঘূর্ণাবর্ত দুর্বল হবার সম্ভাবনা নেই। বরঞ্চ ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণাবর্ত অঞ্চলে বায়ুর চাপ যথেষ্ট হ্রাস পাচ্ছে। বর্তমানে বায়ুর চাপ ১০০৪ মিলিবার এবং বায়ুর গতি ৩০-৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায়। আগামী ২৪ ঘন্টায় নিম্নচাপে পরিণত হবার সম্ভাবনা আছে।
🔴 ম্যাডেন জুলিয়ান অশিলেশন:
ম্যাডেন জুলিয়ান অশিলেশন বর্তমানে আরবসাগরে যথেষ্ট সক্রিয় রয়েছে। সাগরে ম্যাডেন জুলিয়ান অশিলেশন শক্তিশালী থাকলে পরিচলন পক্রিয়ার হার এবং ক্রান্তীয় অস্থিরতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তৈরি হয় সাগরের উপর ঘূর্ণাবর্ত আবর্ত (Vortex). এবং তার গভীরতা বাড়তে থাকে (Vorticity: Rotation speed + Convection + Depth of circulation).
বর্তমানে এম জে ও ফেজ ২ তে অবস্থান করছে অ্যামপলিচিউড ১ এর বেশি। যার জন্য আরবসাগরে তৈরি হয়েছে সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত। এবং আগামী ২০ মে এর মধ্যে এম জে ও আরবসাগরে যথেষ্ট সক্রিয় থাকবে যার জন্য ১৪-২০ মে এর মধ্যে আরবসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এবং পরবর্তীতে এম জে ও ফেজ ৩ এর মধ্যে দিয়ে ফেজ ৪ ও ৫ এর দিকে অগ্রসর হতে পারে। যার জন্য যে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে ক্রান্তীয় ঝঞ্ঝার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও চিত্র্রে দেখা যাচ্ছে আমপলিচিউড কমছে। যদিও পরিস্থিতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
🔴 OLR : OLR এর পুরো নাম Outgoing longwave radiation. ও এর আর এর মান হ্রাস পেলে বায়ুমণ্ডলীয় আদ্রতা ও তাপ বেশি থাকে। ঘূর্ণিঝড়ের লীনতাপ শোষনের হার বৃদ্ধি পায়। যে সমস্ত অঞ্চলে OLR কমে যায় সেই সমস্ত অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় বা ঝঞ্ঝার সম্ভাবনা বাড়ে। Upper tropospheric Water vapour বেশি থাকে।
বর্তমানে OLR পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগর ও সংলগ্ন আরবসাগরে OLR এর মান যথেষ্ট হ্রাস পেয়েছে। ১০০ এর কমে নেমে গেছে OLR এর মান। সাাারণত ২৫০ এর কম OLR হলেই ক্রান্তীয় ঝঞ্ঝার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে ১০০ এর কম OLR থাকায় শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়়ের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
🔴 উইণ্ড শেয়ার :
ঘূর্ণিঝড় শক্তিশালী হবার অন্যতম শর্ত হলো হরাইজন্টাল উইণ্ড শেয়ার হ্রাস পাওয়া। বর্তমানে আরবসাগরে উইণ্ড শেয়ার যথেষ্ট হ্রাস পেয়েছে দক্ষিণ পূর্ব আরবসাগর ও পশ্চিম ভারতের উপকূলীয় এলাকা সংলগ্ন আরব সাগরে। এছাড়াও শেয়ার টেন্ডেন্সি হ্রাস পেয়েছে। এর পাশাপাশি বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় উইণ্ড শেয়ার হ্রাস পাচ্ছে। যা আগামী সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে ক্রান্তীয় ঝঞ্ঝা তৈরির সম্ভাবনা রাখছে।
🌀 সম্ভাব্য গতিপথ : দক্ষিণ পূর্ব আরবসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ পরবর্তী ৭২-৯৬ ঘন্টায় যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে গুজরাট ও সংলগ্ন পশ্চিম ভারতের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে ১৯-২১ মে এর মধ্যে। বঙ্গোপসাগরে উচ্চ বায়ুমণ্ডলীয় উচ্চচাপ বলয় ও উচ্চ পশ্চিমা বাতাসের স্রোত থাকার জন্য সিস্টেম পরবর্তী পর্যায়ে উত্তর উত্তর পশ্চিম দিকে এগুলেও পরবর্তী পর্যায়ে উত্তর উত্তর পূর্ব বা উত্তর পূর্ব দিকে বাঁক নিতে পারে। পাকিস্তানে আঘাত হানার সম্ভাবনা কম। গুজরাট উপকূলীয় এলাকা ও সংলগ্ন এলাকায় আঘাত হানার সম্ভাবনা বেশি। তবে ঘূর্ণিঝড়়ের প্রভাবে পশ্চিম ভারতের উপকূলীয় এলাকায় প্রবল ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে ১৪-২১ মে এর মধ্যে । ব্যাপক জলচ্ছাসের সম্ভাবনা রয়েছে। কেরালা কর্ণাটক মহারাষ্ট্র গুজরাটে ব্যাপক দুর্যোগের সম্ভাবনা।
পূর্বাভাস প্রদানকারী অর্ঘ্য বটব্যাল।
১৩.৫.২০২১

No comments:
Post a Comment