২২ মে নাগাদ পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় ঘনীভূত নিম্নচাপ পরবর্তীতে পরিণত হয় ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে ২৪ মে। এবং পরবর্তীতে আরো শক্তিশালী হয়ে ক্যাটেগরি ১ ঘূর্ণিঝড় হিসাবে ২৬ মে উত্তর ওড়িশা উপকূলে আঘাত হানে। যার জন্য ২৫ মে থেকে এখনো পর্যন্ত দুর্যোগের সম্মুখীন হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়়িশা, ঝাড়খণ্ড সহ বেশ কিছু যায়গা। ২৪ ঘন্টায় ঘূর্ণিঝড় আরো দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হবার জন্য ধীরে ধীরে দুর্যোগ হ্রাস পাবে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও সংলগ্ন এলাকায়। তবে যেহেতু ঘূর্ণিঝড় নিম্নচাপের আকারে ঝাড়খণ্ডে প্রবেশ করে পরবর্তী পর্যায়ে উত্তরবঙ্গের দিকে অগ্রসর হবে তাই ঝোড়ো হাওয়া, মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চল, উত্তরবঙ্গ, বিহার ঝাড়খণ্ড ও সংলগ্ন এলাকায় ৪৮ -৭২ ঘন্টায়। তবে ২৮ মে থেকে সামগ্রিক ভাবে কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলোতে আবহাওয়া উন্নতি হবে। উত্তরবঙ্গোপোসাগর ও নিম্নচাপের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের দিকে বায়ুর চাপ ঢালের তারতম্যের জন্য ২৪-৪৮ ঘন্টায় দক্ষিণবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বা দমকা বাতাস দেখা যাবে এবং পরবর্তীতে হ্রাস পাবার সম্ভাবনা রয়েছে। ২২ মে সৃষ্ট নিম্নচাপ মৌসুমী বায়ুর বঙ্গোপসাগরীয় শাখাকে নির্ধারিত সময়ের আগে শ্রীলঙ্কা উপকূল থেকে পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় এক ধাক্কায় অনেকটা এগিয়ে নিয়ে আসে। এর পর সিস্টেমটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় এগিয়ে এলে এবং সাগর থেকে জলীয় বাষ্প শুষে নেওয়ার জন্য বঙ্গোপসাগরীয় শাখা ৪৮ ঘন্টায় দুর্বল হয় কিছুটা। যার জন্য আর উল্লেখযোগ্য অগ্রসর হতে পারেনি বঙ্গোপসাগর
শাখাটি। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস স্থলভাগ অতিক্রম করার জন্য ও দুর্বল হতে থাকায় আগামী ৪৮ ঘন্টায় মৌসুমী বায়ুর বঙ্গোপসাগরীয় শাখা আরো বেশ খানিকটা এগিয়ে আসবে। এছাড়া আরবসাগর শাখাটি আরো কিছুটা অগ্রসর হবে। আশা করা যায় ২৭ মে থেকে ৩০ মে এর মধ্যে কেরালা ও সংলগ্ন এলাকা ও দক্ষিণ ভারতের বেশ কিছু যায়গায় দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু প্রবেশ করতে চলেছে।
এখন সকলের জাতীয় প্রশ্ন বঙ্গে মৌসুমী বায়ু কবে প্রবেশ করতে চলেছে ?? আশা করা হচ্ছিল নিম্নচাপ সরাসরি বঙ্গে মৌসুমী বায়ু প্রবেশ করাবে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে উঠার জন্য ও খুব তাড়াতাড়ি উপরে উঠে আসার জন্য বঙ্গোপসাগরীয় শাখাকে এগোলেও পরে থমকে যায় অগ্রগতি। তবে ৪৮ ঘন্টায় বঙ্গোপসাগরীয় শাখা সক্রিয় হবার জন্য আবার বেশ খানিকটা এগিয়ে আসবে মৌসুমী বায়ু। আসা করা যায় জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বঙ্গোপসাগরীয় শাখা আরো অগ্রসর হয়ে সমগ্র মায়ানমার ও উত্তর পূর্ব ভারতে প্রবেশ করতে পারে। জুুনের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই উত্তরবঙ্গে প্রবেশ করতে পারে এবছরের বর্ষা। তাহলে দক্ষিণ বঙ্গে মৌসুমী বায়ু কবে প্রবেশ করবে?? দক্ষিণবঙ্গে মৌসুমী বায়ুর অগ্রগতি নিরভর করে আরবসাগর শাখার উপর। আরবসাগরে শাখা বা বঙ্গোপসাগরীয় শাখাকে টেনে আনতে পারে কোনো নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়। লঙরেঞ্জ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে জুন মাসের ১১-১৭ তারিখের মধ্যে বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় একটি নিম্নচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মা পরবর্তী সময়ে শক্তিশালী হবার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই নিম্নচাাপের গভীর হবার সম্ভাবনা পাওয়া গেলেও ঘূর্ণিঝড় আদৌ হবে কিনা তা এখনি বলা সম্ভব নয়। সুুতরাাং এখন আতঙ্কিত হবার কোনো কারণ নেই। তবে এই নিম্নচাপ যে বঙ্গে মৌসুমী বায়ু ঢোকাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে ২৯ মে থেকে ২ জুুনের মধ্যে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় চরম অসস্তিকর ভ্যাপসা গরম অনুভব হবে। বিছিন্ন থেকে বিক্ষিপ্ত বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে ২৭-৩০ মে এর মধ্যে বজ্রবিদ্যুত সহ ঝড়বৃষ্টি / দমকা হাওয়া সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাস প্রদানকারী অর্ঘ্য বটব্যাল।
তারিখ: ২৬.৫.২০২১

No comments:
Post a Comment