বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে চলেছে মরশুমের প্রথম ঘূর্ণিঝড়। ২২ মে পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন আন্দামান সাগরে তৈরি হতে চলেছে নিম্নচাপ। সাধারণত মে মাসের শেষ সপ্তাহে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ থেকে থাকে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা। আশা করা যাচ্ছে আসন্ন নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণত ২২ মে আন্দামান সাগর ও সংলগ্ন পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে চলেছে। যা ২৩ মে নাগাদ সুষ্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হবার সম্ভাবনা রয়েছে।২৪ মে নাগাদ গভীর নিম্নচাপ ,২৫ মে নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। এবং ২৬-২৭ মে নাগাদ প্রবল থেকে প্রবলতর ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করা যায় ২৬-২৮ মে এর মধ্যে সিস্টেমটি যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে প্রবলতর ঘূর্ণিঝড়ের রূপে স্থলভাগ অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণত স্থলভাগ অতিক্রমের সময় ভেরি সিভিয়ার ঘূর্ণিঝড় হিসাবে স্থলভাগ অতিক্রমের সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অনুকূল সমুদ্র জলতাপমাত্রা, নিম্ন উইণ্ড শেয়ার ও এম জে ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল ও সংলগ্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করায় সিস্টেমটি যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে। শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ২৪/২৫-২৭/২৮ তারিখের মধ্যে ব্যাপক ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায়। মূলত ২৫/২৬-২৭/২৮ তারিখের মধ্যে ব্যাপক ঝোড়ো হাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের সতর্কতা দেওয়া হল। ২২/২৩-২৪/২৫ তারিখ পর্যন্ত আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ৪০-৮০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। মনসুন সার্জ ও সিস্টেমের প্রভাবে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের সতর্কতা দেওয়া হল। ওই সময় উত্তর আন্দামান সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জলচ্ছাস হতে পারে।
২৩-২৫ মে এর মধ্যে পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন আন্দামান সাগরে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল। ২৫-২৮ মে এর মধ্যে মধ্যবঙ্গোপসাগর, উত্তর বঙ্গোপসাগর যথেষ্ট উত্তাল থাকবে। দমকা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাবে। কোথাও কোথাও ৮০-১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা বা তার বেশি ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তীব্র জলচ্ছাসের সতর্কতা। উত্তাল সমুদ্রের সতর্কতা। ২৪-২৮ মে এর মধ্যে উত্তর বঙ্গোপসাগর, মধ্যবঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন ওড়িশা গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল। মায়ানমার উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাবে সিস্টেমটি উত্তর ও উত্তর উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবার সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে উত্তর ও উত্তর উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হবার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে উত্তর ওড়িশার বালাসোর থেকে পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন এলাকা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে উত্তর ওড়িশার বালাসোর, দীঘা, কাঁথি হলদিয়া , গঙ্গা নদীর মোহনা, সুন্দরবন ও বাংলাদেশের খুলনা বিভাগ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। উক্ত অঞ্চলগুলির যেকোনো যায়গায় ২৬-২৮ মে এর মধ্যে সিস্টেম ল্যাণ্ডফল করতে পারে। দক্ষিণ পশ্চিম বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ও উত্তর ওড়িশায় ব্যাপক তাণ্ডব চালাতে পারে ঘূর্ণিঝড়।
দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আন্দামান সাগর ও দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গোপসাগরে আসতে চলেছে। প্রদত্ত নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর বঙ্গোপসাগরীয় শাখাকে বেশ খানিকটা এগিয়ে নিয়ে আসতে পারে।
পূর্বাভাস প্রদানকারী অর্ঘ্য বটব্যাল।
১৯.৫.২০২১

No comments:
Post a Comment