কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাত ওতোপ্রোত ভাবে জড়িত। ঘূর্ণাবর্ত ও অক্ষরেখার প্রভাবে সৃষ্ট সুউচ্চ কিউমুলোনিম্বাস মেঘ থেকে প্রবল বজ্রপাত এক লক্ষণীয় বিষয়। স্থানীয় ভাবে সৃষ্ট বজ্রগর্ভ মেঘ থেকেও তুমুল বজ্রপাত হয়ে থাকে। সাধারণ ভাবে সমুদ্র থেকে আসা জলীয় বাষ্প পূর্ণ আদ্র বাতাস বায়ুশূন্য স্থান (সিস্টেম) কে কেন্দ্র করে উপরে উঠতে থাকে। এবং ঘনীভূত হয়ে জলকণা ও ধূলিকণার সমন্বয়ে মেঘ তৈরি করে থাকে। প্রাথমিক ভাবে ৮৫০ এইচ পি এ লোয়ার লেভেল থেকে উপর দিকে উল্লম্বভাবে উপরের দিকে মেঘ উঠতে থাকে। পরিচলন পক্রিয়া ক্রমান্বয়ে হতে থাকায় মেঘের উচ্চতা ক্রমশ বাড়তে বাড়তে মিড ট্রপোস্ফিয়ার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে থাকে। এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০-১৪ কিলোমিটার উপর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে শক্তিশালী কিমুলোনিম্বাস মেঘে পরিণত হয়। এই কিউমুলাস থেকে যত সংগঠিত হয়ে কিউমুলোনিম্বাস মেঘে পরিণত হতে থাকে তত প্রবল বজ্রপাতের প্রবণতা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে অক্ষরেখা ও ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে ঝড়বৃষ্টির সময় মেঘ একটি অঞ্চলে দাঁড়িয়ে ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী হতে থাকায় বজ্রপাতের প্রবণতা বাড়তে থাকে। মেঘের উপরিস্তর ও নীচের স্তরে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আধানের মিথস্ক্রিয়ার জন্য প্রবল বজ্রপাত ও বজ্রঝলকানি লক্ষ্য করা যায়। আগামী ৪৮-৭২ ঘন্টায় কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুত সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও প্রবল বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গ, বাংলাদেশ ও উত্তর পূর্ব ভারতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রবল লাল বজ্রপাত ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত মাঝেমধ্যে নেমে আসায় মাঝেমধ্যে এক বা একাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটাতে সক্ষম হয়। ২০২০ সালে জুলাই আগস্ট মাসে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে কয়েক দফা বজ্রপাতে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে ১৫০ এর বেশি মানুষ মারা যায়। বজ্রপাত গাছে পড়ে বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদের ব্যাপক ধ্বংস সাধন করে। বজ্রপাতে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে প্রচুর মানুষ প্রতিবছর মারা যায়। আগামী ৪৮-৭২ ঘন্টায় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে প্রবল বজ্রপাত সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও আগামী ২ সপ্তাহ পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশ উত্তর পূর্ব ভারত মাঝে মধ্যেই বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির আওতাধীন হবে। সাথে থাকবে বজ্রপাত। তাই ঝড়বৃষ্টির পাশাপাশি ভয়ঙ্কর বজ্রপাত নিয়ে সতর্ক হোন।
⚠️ বজ্রপাতের ঝুঁকি:
আগামী ৪৮-৭২ ঘন্টা থেকে আগামী ২ সপ্তাহে কমবেশি প্রতিদিন পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ ও উত্তর পূর্ব ভারতে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সাথে রয়েছে প্রবল বজ্রপাতের সতর্কতা।
🔴 বজ্রপাতে করণীয় ও করণীয় নয় :
🔵 বজ্রগর্ভ মেঘ সঞ্চার হলে তাড়াতাড়ি ইলেকট্রনিক মিডিয়া বন্ধ করে রাখুন ও বাড়ির টিভি রেফ্রিজারেটর মোবাইলের চার্জারের সুইচ অফ করে প্লাগ খুলে রাখুন।
🔵 বজ্রপাতের সময় জলে নামবেন না ও খোলা যায়গায় দাঁড়াবেন না।
🔵 বজ্রপাত চলাকালীন ধাতব বস্তুর সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকুন।
🔵 বজ্রপাতের সময় বাড়ির জানালা ও দরজা বন্ধ রাখুন।
🔵 বজ্রপাতের ছবি না তোলাই ভালো। ছবি তুললেও সাবধানতা অবলম্বন করুন ।
🔵 বজ্রপাতের সময় মোবাইল টাওয়ার ও হাইটেনশান লাইনের কাজ বন্ধ রাখুন।
🔵 বাড়িকে বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা করতে বিশেষ প্রতিরোধী রাখুন।
🔵 বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়বৃষ্টি চলাকালীন নিরাপদ পাকা বাড়ির নীচে থাকুন।
🔵 চাষী ভাইদের অনুরোধ বজ্রগর্ভ মেঘ দেখতে পেলে সঙ্গে সঙ্গে মাঠের কাজ থামিয়ে দিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসুন।
👉 কেন ও কতদিন হবে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়বৃষ্টি??
বর্তমানে বাংলাদেশের সিলেট ও সংলগ্ন উত্তর পূর্ব ভারতের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। অপর একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন এলাকায়। একটি অক্ষরেখা অবস্থান করছে উত্তর পূর্ব ভারত থেকে বাংলাদেশ , পশ্চিমবঙ্গ হয়ে ওড়িশা পর্যন্ত। যার জন্য আগামী ৪৮-৭২ ঘন্টায় বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুত সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যাক টু ব্যাক অক্ষরেখা ও স্থল ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হবার জন্য আগামী ২ সপ্তাহে বাংলাদেশ, উত্তর পূর্ব ভারত ও পশ্চিমবঙ্গে বজ্রগর্ভ মেঘ সঞ্চার হয়ে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকৃত পক্ষে একাধিক বৃষ্টি বলয়ের দ্রুত অধিক্রমণের জন্য ঝড়বৃষ্টি বন্ধ হবে না। বিক্ষিপ্ত ভাবে চলতেই থাকবে।
🌑 ঝড়বৃষ্টির প্রকৃতি কেমন হবে ??
আগামী ৪৮-৭২ ঘন্টায় বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুত সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশ ও উত্তর পূর্ব ভারতে। একনাগাড়ে সারাদিন ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। একবার ঝড়বৃষ্টির পর আবার বেশ কিছু সময় বিরতির পর আবার ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ একটা চক্রাকার পদ্ধতিতে ঝড়বৃষ্টি হবে।
১) ঝড়বৃষ্টি পর্যায়: এই পর্যায়ে তীব্র ঝড়বৃষ্টি ও প্রবল বজ্রপাতের সতর্কতা থাকছে।
২) ঝড়বৃষ্টি পরবর্তী মেঘাছন্ন ও হালকা বৃষ্টির পর্যায়: এই পর্যায়ে ঝড়বৃষ্টি হয়ে যাবার পর পরিত্যক্ত বিলীয়মান ও দুর্বল মেঘ থেকে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ ও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি মূল ঝড়বৃষ্টির পর কিছুক্ষণ চলবে। আবহাওয়া এই পর্যায়ে শীতল ও মনোরম হবে।
৩) আবহাওয়ার উন্নতি: হালকা বৃষ্টি ও মেঘাছন্নতা পর্যায়ের পর আবার আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করবে। ধীরে ধীরে রোদ উঠবে। এবং রোদ মেঘ বা আংশিক মেঘলা আকাশ চোখে পড়বে। এই সময় আদ্র ও অসস্তিকর ঘর্মাক্ত গরম অনুভব হবে।
🔵 নোট: আগামী ২ সপ্তাহে দিনে একটি বা দুটি ঝড়বৃষ্টির স্পেল দেখা যেতে পারে। ঝড়বৃষ্টির স্পেলের মধ্যবর্তী সময়ে চলবে বৃষ্টি বিরতি পর্যায়। দুটি ঝড়বৃষ্টির স্পেলের ব্যবধান থাকবে ৬-১২ ঘন্টা বা কোনো কোনো সময় ১২-২৪ ঘন্টা পর্যন্ত গ্যাপ থাকবে আগামী ২ সপ্তাহে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিছুটা তারতম্য চোখে পড়লেও চোখে পড়তে পারে। এক অঞ্চল সবসময় সমান ঝড়বৃষ্টি নাও পেতে পারে। কোথাও কম ও কোথাও বেশি ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত থাকবে।
⛅ আগামী ৪৮-৭২ ঘন্টায় কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে আংশিক মেঘলা আকাশ ও কোনো কোনো সময় মেঘাছন্ন আকাশ চোখে পড়বে। বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুত সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২ সপ্তাহ শুধু কালবৈশাখী প্যাটার্নে ঝড়বৃষ্টি হবে তাই নয়। কালবৈশাখী ঝড় ও প্রাকমৌসুমী উভয় ধরনের ঝড়বৃষ্টির মিলন চোখে পড়বে। অর্থাৎ পশ্চিমাঞ্চল ও ঝাড়খণ্ড লাগোয়া অঞ্চল থেকে যেমন বজ্রগর্ভ মেঘ আসবে। তেমনি দিনের কোনো কোনো সময় বিক্ষিপ্ত ভাবে স্থানীয় ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাস প্রদানকারী অর্ঘ্য বটব্যাল।
৫.৫.২০২১

No comments:
Post a Comment