২৪ থেকে ২৭ মে পর্যন্ত ইয়াসের বৃষ্টিতে ভিজেছে উত্তর থেকে দক্ষিণ। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ধামড়া ও বালাসোরের মাঝে স্থলভাগ অতিক্রম করলেও তা পরে এগিয়ে গেছে পশ্চিমবঙ্গের কান ঘেঁষে উত্তর ও উত্তর উত্তর পশ্চিম দিকে। যার জন্য ঝাড়খণ্ড, বিহার , ওড়িশার পাশাপাশি
উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন যায়গায় ভালো বৃষ্টি ঘটিয়েছে। উপকূলীয় এলাকার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি হয়েছে ২৪ থেকে ২৭ মে এর মধ্যে। পশ্চিমবঙ্গে মূলত দুটি কারণে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টি বয়ে গেছে। প্রথমটি হলো ঘূর্ণিঝড় সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে আঘাত না করলেও তার আউটার ক্লাউড ব্যাণ্ড উপকূলীয় দক্ষিণবঙ্গে প্রবেশ করে বৃষ্টি ঘটিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়ে তখন ঝাড়খণ্ডের দিকে এগিয়ে গেছে তখন প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প পূর্ণ সামুদ্রিক আদ্র বাতাস প্রবেশ করেছে এবং ময়েশ্চার ইনকারশানের প্রভাবে ২৭ মে বিপুল পরিমানে বৃষ্টি হয়েছে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে। এবার দেখে নেওয়া যাক পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্টেশনে ঠিক তিনদিনে কেমন বৃষ্টি হয়েছে (২৪ থেকে ২৭ মে):
👉 মালদা টাউন : ৩৬০.৪ মিলিমিটার।
👉 আসানসোল: ৫৮.৯ মিলিমিটার।
👉 বাঁকুড়া: ৫৪ মিলিমিটার।
👉 ব্যারাকপুর : ২১০.৬ মিলিমিটার।
👉 বহরমপুর: ৭৫ মিলিমিটার।
👉 বর্ধমান: ১০০ মিলিমিটার।
👉 ক্যানিং : ৪৩ মিলিমিটার।
👉 কাঁথি: ২১৭.২ মিলিমিটার।
👉 দার্জিলিং: ২৩৮.৬ মিলিমিটার।
👉 ডায়মণ্ড হারবার: ২৫৫.২ মিলিমিটার।
👉 দীঘা : ১৩৩.৮ মিলিমিটার।
👉 দমদম: ১৭৪.২ মিলিমিটার।
👉 হলদিয়া: ২৪৮.২ মিলিমিটার।
👉 কলকাতা: ১৯৭.৫ মিলিমিটার।
👉 সল্টলেক: ১৫৪.৫ মিলিমিটার।
👉 বাগাতি : ১৫৮ মিলিমিটার।
বর্তমানে দক্ষিণবঙ্গে দুর্যোগের পরিমাণ হ্রাস পেলেও উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে আগামী ৪৮ -৭২ ঘন্টায় বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুত সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে বর্তমানে সাধারণ লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এই লঘুচাপ ও তার সঙ্গে জলীয় বাষ্পের প্রাচুর্যের কারণে উত্তরবঙ্গ, বিহার, নেপাল, সিকিমে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে ৪৮ ঘন্টায়। সাধারণ লঘুচাপটি পরবর্তী পর্যায়ে সাধারণ ঘূর্ণাবর্তের আকারে বিহার ও উত্তরবঙ্গের দিকে ৪৮-৭২ ঘন্টায় সরে আসতে পারে। এই ঘূর্ণাবর্ত ও অক্ষরেখার প্রভাবে উত্তরবঙ্গ ও মধ্যবঙ্গে ৩০ মে থেকে ৩ জুনের মধ্যে বিক্ষিপ্ত বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে আজ অসস্তিকর ঘর্মাক্ত গরম অনুভব হয়েছে। আগামী ৭২ ঘন্টায় অসস্তিকর গরম অনুভব হবে, আকাশ থাকবে রৌদ্রজ্জ্বল থেকে আংশিক মেঘলা ও কোনো কোনো সময় কিছুটা মেঘাছন্ন হলেও হতে পারে। স্থানীয় বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়ে বিছিন্ন থেকে বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুত সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে আগামী ৭২ ঘন্টায়। ৩০ মে থেকে ২ জুনের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা বাড়বে।
পূর্বাভাস প্রদানকারী অর্ঘ্য বটব্যাল।
২৮.৫.২০২১.

No comments:
Post a Comment