❄️উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ: পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় কৃষকদের বাড়তি সতর্কতার বার্তা❄️
উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ—দুই অঞ্চলেই আবহাওয়ার চরিত্রে স্পষ্ট পার্থক্য থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষকদের জন্য ঝুঁকি বেড়েছে। কখনও কুয়াশা, কখনও শৈত্যপ্রবাহ, আবার কোথাও অকাল বৃষ্টি—এই ওঠানামা ফসল উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তাই বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি বুঝে আগাম প্রস্তুতি নেওয়াই কৃষকদের জন্য সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে।
উত্তরবঙ্গে শীতকালে কুয়াশা ও ঠান্ডার প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে ভোরের দিকে ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যালোক কম পৌঁছায়, যার প্রভাব পড়ে আলু, সরিষা ও শীতকালীন সবজি চাষে। দীর্ঘ সময় কুয়াশা থাকলে ছত্রাকজনিত রোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই জমিতে জল জমে থাকতে না দেওয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী ছত্রাকনাশক ব্যবহার এবং সকালবেলায় হালকা সেচ দেওয়ার মতো পদক্ষেপ কৃষকদের নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে শীতের তীব্রতা তুলনামূলক কম হলেও আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা বেশি। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে যেমন দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে মাঝেমধ্যে নিম্নচাপজনিত বৃষ্টি ও ঠান্ডা হাওয়ার প্রভাব পড়ে। এর ফলে ধান, ডাল ও সবজি চাষে সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে ফসল কাটার সময় নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণের জেলাগুলিতে কৃষকদের সমানভাবে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে কৃষি কাজের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে কুয়াশার প্রকোপ থেকে কৃষি ক্ষেত্রকে বাঁচাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করার প্রয়োজন।
উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ—উভয় ক্ষেত্রেই তাপমাত্রার হঠাৎ ওঠানামা গবাদি পশুর স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। শীতকালে গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগির জন্য উষ্ণ আশ্রয় ও পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা না করলে রোগের আশঙ্কা বাড়ে। তাই খামার পরিষ্কার রাখা, সময়মতো টিকা দেওয়া এবং ঠান্ডা হাওয়া থেকে পশুদের রক্ষা করা জরুরি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া পরিস্থিতি বুঝে পরিকল্পিত কৃষিকাজই ভবিষ্যতের চাবিকাঠি। সচেতনতা বাড়লে যেমন ফসলের ক্ষতি কমবে, তেমনই কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তাও অনেকাংশে নিশ্চিত হবে।

No comments:
Post a Comment