বঙ্গে শুরু হলো টর্নেডোর ভ্রুকুটি - Weather of West Bengal

My weather, my bengal.

Thursday, May 27, 2021

বঙ্গে শুরু হলো টর্নেডোর ভ্রুকুটি

🔴 টর্নেডো : টর্নেডো শব্দের উৎপত্তি Tornada থেকে যার অর্থ হলো বজ্রঝঞ্ঝা। সাধারণত সম্যক অর্থে আমরা বলতে পারি সুউচ্চ বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে তখন ফানেলাকার বা হাতির শুঁড়ের মতো ঘূর্ণায়মান উইণ্ড শেয়ার মাটি স্পর্শ করে থাকে। তবে মূলত উত্তর আমেরিকার প্রেইরি অঞ্চলে টর্নেডো দেখা গেলেও ভারতের মতো ক্রান্তীয় অঞ্চলে বজ্রঝঞ্ঝা হলেও টর্নেডো তেমন একটা হয়না। এই টর্নেডো মূলত লোকাল ভর্টেক্স। 
🌑 পরপর টর্নেডো দক্ষিণবঙ্গে: ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে পরপর টর্নেডো দেখা গেল দক্ষিণবঙ্গে। ২৫ মে হালিশহর ও ব্যাণ্ডেল অঞ্চলে টর্নেডো গঠিত হয়। মা খুবই ক্ষণস্থায়ী। 
২৭ মে নদীয়াতে টর্নেডো লক্ষ করা যায়। যা সত্যিই চিন্তার বিষয়।। পরপর এই টর্নেডোর ট্রেন্ড তৈরি হওয়া সত্যিই চিন্তার বিষয়। তার মানে এটা বুঝতে হবে পশ্চিমবঙ্গে ধীরে ধীরে টর্নেডো সৃষ্টির অনুকূল হয়ে উঠছে। হয়তো এমন হতেও পারে ঘূর্ণিঝড় চলে যাওয়ার পরেও লোকাল ভর্টেক্স অর্ডিনারি বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে তৈরি হবার একটা ইঙ্গিত থাকছে। 
🔵 ইয়াস ঘূর্ণিঝড় ও টর্নেডো পক্রিয়া : সাধারণত টর্নেডো হলো এক প্রকার মেসোসেল বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে সৃষ্ট আবর্ত। বায়ুমণ্ডলের ভিন্ন ভিন্ন স্তরে উইণ্ড শেয়ারের তারতম্য হলে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে ঘূর্ণায়মান আবর্ত তৈরি হয়। ধরা যাক ৬০০-৭০০ hpa তে পূর্ব দিক থেকে বাতাস দিচ্ছে, ৪০০-৫০০ hpa তে পশ্চিমা বাতাসের প্রবাহ দেখা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হলে পরিমণ্ডলীয় স্তরে দুই ধরনের বায়ুর সম্মিলন হলে ঘূর্ণি তৈরি হয়। এবং সেখান থেকেই ঘূর্ণায়মান উইণ্ড শেয়ার নেমে আসে। যদি নিম্নস্তরের পরিচলন পক্রিয়ার জন্য নিম্নস্তরের বায়ুর উপরে উঠতে থাকে উষ্ণতা বেশি নিয়ে এবং উপরের স্তরের শীতল বাতাস ভারী বলে নীচের দিকে নেমে আসে তখন ব্যারোক্লিনিক কন্ডিশন তৈরি হয় এবং সীমান্ত বরাবর লোকাল ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়। যা কোনো কোনো সময় টর্নেডোর রুপ ধারণ করে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস একটি বড়ো অঞ্চলের উইণ্ড শেয়ারকে প্রভাবিত করে থাকে। ঘূর্ণিঝড় নিজের কেন্দ্রের দিকে বায়ু টানতে থাকে। কোনো কোনো সময় এত বেশি পরিমাণে বায়ু টেনে নেয় মে সাময়িক ভাবে কোনো কোনো অঞ্চলে উইণ্ড শেয়ার কমে যায়। যার জন্য টর্নেডো তৈরি হয়। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে টর্নেডো সৃষ্টি হয়েছে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে। 
👉 আশঙ্কার কথা: ঘূর্ণিঝড় ইয়াস স্থলভাগে প্রবেশ করলেও বিস্তীর্ণ এলাকার উইণ্ড শেয়ারের পরিবর্তন ঘটিয়েছে। বায়ুমণ্ডলে অস্থিরতা তৈরি করে রেখেছে। নীচের দিকে তীব্র কনভারজেন্স উপরের দিকে সক্রিয় ডাইভারজেন্স পক্রিয়া হবার জন্য বায়ুমণ্ডলের ভিন্ন স্তরে বায়ুর অভিমুখনের পরিবর্তন ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে বজ্রগর্ভ মেঘ সঞ্চার হলে অত্যধিক অস্থির বায়ু প্রবাহ ও আকস্মিক উইণ্ড শেয়ার ড্রপ করলে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে টর্নেডো তৈরির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে পড়ছে ক্রমশ। তবে ঘূর্ণিঝড়টি বড়ো অঞ্চল জুড়ে মে পরিমণ্ডলীয় অস্থিরতা তৈরি করেছে তা কাটতে সময় লাগবে। এছাড়াও পরপর টর্নেডো সৃষ্টি হওয়ায় এটা বুঝতে হবে বঙ্গ ও বাংলায় টর্নেডো সৃষ্টির একটা ট্রেন্ড থেকেই যাচ্ছে অর্থাৎ বঙ্গের পরিস্থিতি টর্নেডো সৃষ্টির অনুকূল। তাই আসন্ন দিনে টর্নেডোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছেনা। 
ঝাড়খণ্ডের উপর থাকা গভীর নিম্নচাপ পরবর্তী পর্যায়ে দুর্বল হয়ে উত্তর ও উত্তর উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হবার সম্ভাবনা রয়েছে। তার জন্য উত্তরবঙ্গ, বিহার , উত্তর ও মধ্য বাংলাদেশ , মধ্যবঙ্গে ঝড়বৃষ্টি হবে ৪৮-৭২ ঘন্টায়। যেহেতু মূল ভর্টেক্স উত্তর ও উত্তর উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে দুর্বল হয়ে তাই ওই সমস্ত অঞ্চলে লোকাল ভর্টেক্স/সক্রিয় বজ্রগর্ভ মেঘ/টর্নেডো তৈরির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছেনা। এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে তীব্র বায়ুর চাপ ঢালের তারতম্যের জন্য লোকাল ভর্টেক্স , বজ্রবৃষ্টি বা বজ্রঝঞ্ঝার সম্ভাবনা থাকছে। ৪৮ ঘন্টায় মাঝে মধ্যে বজ্রবিদ্যুত সহ বৃষ্টি বা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে। 
পূর্বাভাস প্রদানকারী অর্ঘ্য বটব্যাল।
২৭.৫.২০২১

No comments:

Post a Comment

Weather Prediction Model

Comming Soon......